যৌতুকের নতুন ভার্শন।

বেশ কয়েক বছর আগে যৌতুক প্রথা নিয়ে সরকার অনেক প্রচারণা চালিয়েছে। শুধি সমাজে এর প্রভাব খুব ভালো করে পড়েছে। তাই যৌতুক প্রথা আজ সম্পূর্ণ না হলেও দমন করা সম্ভব হয়েছে। সাথে সাথে নতুন প্রথারও উদ্ভব হয়েছে বটে আর তা হল গিফট। মানুষ এখন যৌতুক দেয়া নেয়া করেনা শুধি জনেরা এখন গিফট দেয়া নেয়া করে। চট্টগ্রামে যৌতুকের শৈল্পিকতা নিয়ে আজ কিছু বলব বলে ঠিক করেছি। এই অঞ্চলের বিয়ের আমেজ প্রায় এক বছর সম্পূর্ণ রূপে স্থায়ী থাকে। ধরুন কোন ভাবে একটি ছেলে ও একটি মেয়ের পারিবারিক ভাবে বিয়ে ঠিক হল। দুই পরিবারের মুরুব্বি-গন মিলে বিয়ের আয়োজনে তৎপর হয়ে পড়েন। বর পক্ষ ও কনে পক্ষের লেনদেনের ব্যাপারটা এই আলোচনাতেই শুরু। বর পক্ষের লোকজন বলবে আপনাদের কাছে আমাদের কোন দাবী নেই। আপনারা আপনার মেয়েকে সাজিয়ে দিবেন। আপনারা যদি ফ্রিজ দেন ঠাণ্ডা পানি খাবে আপনাদেরই মেয়ে খাট পালং দিলে সেখানে শুবেও আপনাদের মেয়ে। এই ভাবে ফুল ফার্নিচার আর টিভি ফ্রিজ দিতে হয় মেয়ে পক্ষকে। যদি বর পক্ষ নিতে আপত্তি করে তাহলে কনে পক্ষ তাকে উপহার বলে সিদ্ধ করে। তারপরে আসে বর যাত্রার ব্যাপারটা যে খরচটা বহন করতে হয় সম্পূর্ণ কনে পক্ষকে। স্ট্যাটাসের উপর নির্ভর করে বর যাত্রী সংখ্যা এবং তা ৮০০-১৫০০ মধ্যে সাধারণত হয়ে থাকে আর যদি বর পক্ষ বলে আমরা বর যাত্রী চাইনা তার পরিবর্তে বরযাত্রী বাবদ যত খরচ হবে তা তাদের দিয়ে দেওয়া হোক এবং তাতে কনে পক্ষ রাজী হতে বিলম্ব করেনা। সেই টাকার পরিমাণ ১ লক্ষ টাকার কম হয়ে থাকেনা। যাক বিয়েটা এভাবে হয়ে গেল। কনে গেল তার শশুর বাড়ি। কিন্তু তার কয়েকদিন পরেই কুরবানের ঈদ। এবং অবশ্যই কুরবান উপলক্ষে কনে পক্ষ আস্ত একটা গরু গিফট পাঠিয়ে দেয়। যে পশু মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য কোরবানি করা হয় তা কনের বাবা তার মেয়ের শশুর বাড়ীর লোকদের সন্তুষ্ট করার জন্য কোরবানি করে দেয়। এই গরু হয় বরপক্ষ বিক্রয় করে দেই অথবা কোরবানি দিয়ে দেই এখানে কোরবানের সার্থকতা কতটুকু তা বিজ্ঞ হুজুর সম্প্রাদয় বিচার করুক। কোরবানের পরেই মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব মহরম হয় এই উপলক্ষে কনে পক্ষ এক ঠেলা গাড়ি কোরমা পোলাও মুরগীর রোস্ট পাঠায়। এবং এর পরিমাণ যত বেশী হবে শশুর বাড়ির লোকজনের চেহারার উজ্জ্বলতা তত বৃদ্ধি পাবে। তারপরে শুরু হয় গরমের সময়। তরমুজ বাকির( এক ধরনের ফল) ছড়াছড়ি তখন পুরানো ঠেলা ওয়ালা কে আবার স্মরণ করতে হয়। তার পর আসল আমা কাঁঠালের দিন। এ খানে শেষ মনে করলে ভুল করবেন। মহরমের পর আসে শবে বরাত এবং মহরমে যা যা পাঠানো হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি ঘটে। তার কদিন পরেই রোজা। ইফতারি কাহাকে বলে কনে পক্ষ তা বর পক্ষকে বুঝিয়ে ছারে। এই রোজাতেও ঠেলা ওয়ালাকে নিরাশ হতে হয়না। মেয়ের শশুর বাড়ির প্রতিটি সদস্যের জন্য ঈদের জামা কাপর অবশ্যই পাঠাতে হবে। এবং তাও হতে হবে বিশদ আয়োজনে। ঈদ গেল এখন শীত পরছে ধরে নিন। শিতের যত রকম পিঠা আছে তা না পাঠালে কি হয়? এক বছর পূর্ণ হল। এদিকে-তো কনে এখন গর্ভবতী তার ডেলিভারির সময় ঘনিয়ে এসেছে। বাচ্চা হল। আকিকা হল। নানা নানী যদি ছাগল না দেই সে আকিকা কি পূর্ণ হবে? বাচ্চা একটু বড় হল সামান্য দাঁত দেখা দিতে লাগলো। তাতেই মেয়ের শশুর বাড়ীর লোক ব্যস্ত হয়ে পড়ে নানা নানী কে খবর দেয়ার জন্য। কারণ বাচ্চাটার দাঁত উঠেছে সে এখন মাংস খেতে পারবে। সে উপলক্ষে মাংস পাঠানো হোক। এখন আপনার বিবেচনা এটা কে কি আপনি সংস্কৃতি বলবেন নাকি অপসংস্কৃতি বলবেন? ও আচ্ছা যৌতুক প্রথা কি বন্ধ হয়েছে?

Advertisements

হিমুর আছে জল (বাকি অংশ)

আমরা খাচ্ছি।লঞ্চ ডুবছে।তৃষ্ণা ওয়াইনের বোতলের মুখ খুলতে খুলতে বলল, হাউ এক্সাইটিং!

কী সুন্দর যে তাকে লাগছে,‘মুখের পানে চাহিনু অনিমেষ,বাজিল বুকে সুখের মত ব্যাথা।’তৃষ্ণা চমকে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, তোমাকে একটা কথা বলতে ভুলে গেছি।আমি মাঝে মাঝে মানুষের মনের কথা বুঝতে পারি।

নিচ থেকে বিকট হৈ চৈ শুনা যাচ্ছে।মনে হয় লঞ্চ তলিয়ে যেতে শুরু করছে।আতর তাড়াহুড়া করে আমার পাশে এসে বসল।বলল, ‘হিমু ভাই আমি আপনাকে বলেছিলাম না আমি আপনার কেনা গোলাম।আমি থাকতে আপনার কিছু হবেনা।প্রয়োজনে আমি আপনাকে কাঁধে নিয়ে পারে যাব।

 

‘তুমি অস্থির হয়োনা।আমাদের মধ্যে কারো কিছু হবেনা। আমরা সবাই বেঁচে যাব। প্রকৃতি আমাদের নিয়ে একধরনের খেলাই মেতেছে।সে কিছুক্ষন পর শান্ত হবে’ আতরের চোখে মুখে আনন্দের আভাস দেখা দিল।সে আনন্দিত গলাই বলল ‘হিমু ভাই নিচে যে পানি ঢুকা আরম্ভ হইছে।আমাদের এখন করনীয় কী?’

সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে।স্বয়ং নেতা আমার কাছে পরামর্শ চাচ্ছে। ব্যাপারটা তারা বুঝার চেষ্টা করছে।ভয়ংকর দূর্যোগের সময়ও মানুষ আতঙ্কিত তাদের লিডার কে নিয়ে।সবার মাঝে অস্থিরতা বেড়ে চলছে।অস্থিরতা নিয়ে আমার বাবার লিখিত আদেষ কোন অবস্থাতেই অস্থির হওয়া যাবেনা।আমি আমার বাবার আদেষ পালন করছি।কিন্তু মনের মধ্যে সামান্য অস্থিরতা কাজ করছে তৃষ্ণাকে নিয়ে।এ মেয়ে কোন সাধারন মেয়ে নই।প্রকৃতির সাথে তাল মিলেয়ে সেও তার মত করে খেলছে।ঝামেলার কথা হচ্ছে সে মাঝে মাঝে মানুষের মনের কথা বুঝতে পারে।ব্যাপারটা খুবই সাঙ্গাতিক।তাকে কিছুতেই আমার মনের মধ্যে প্রবেশ করানো যাবেনা।তৃষ্ণা আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে।আমিও তার দিকে তাকিয়ে হাসলাম।নিচের যারা ছিল তারা সবাই উপরে আসতে শুরু করেছে।আতর সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করছে।তবে সে কথা বলছে থেমে থেমে।মনে হয় কাঁটা এখনো তার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে।লঞ্চ ধীরে ধীরে ডুবতে আরম্ভ করছে।তবে ঝড় থেমে গেল।লঞ্চ ডুবছে কারন লঞ্চে পানি ঢুকছে।আমার বাবা আমাকে অনেক ছোট বেলায় পানিতে ডুবিয়ে মৃত্যুর খুব কাছাকাছি নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।মন্দ না।ছোটবেলার অভিজ্ঞতাটা এখন অনেকটা ভাসা ভাসা হয়ে গেছে।আজকে আরেকটু প্র্যাক্টিস করা যাবে।পীর কুতুবির কথাবার্তা আবার ফীলসফি লাইনে চলে গেছে।উনি ব্যাখ্যা করছেন জগতের কঠিনতম কাজ হচ্ছে নিজেকে জানা।

“বাছারা প্রথমে জানতে হবে তুমি কে?কি তোমার পরিচয়।মনে রাখবা আমিত্ব বলতে কিছু নাই।তুমি তোমার না।তুমি হয়ছ আরেকজনের সম্পত্তি। আল্লাহপাক আমাদের সৃষ্টি করেছেন তার গোলামি করার জন্য।যা কিছু ঘটে সব কিছু তার ইচ্ছাই ঘটে”

ভিরের মধ্য থেকে একজন বলে উঠল, ‘পীর সাহেব, আজকের এই ঘটনাও কি আল্লাহপাকের ইশারাই ঘটতাছে?’

পীর বললেন ‘অবস্যই সব কিছু যখন আল্লাহর ইচ্ছাই হয় এটাও তার ইচ্ছা।সবাই আর কথা না বলে দুয়া ইউনুস পড়া ধর’

সবাই দুয়া ইউনুস পড়া আরম্ভ করল।তৃষ্ণা ব্যাপার গুলো খুবই মুগ্ধ হয়ে ভিডিও করছে।তাকে উদ্দেস্য করে একজন যুবক বলল, ‘ম্যাডাম দয়া করে আমাকে তুলবেন না।আমার ক্যামারা ফ্যাস ভালোনা’। হঠাত লক্ষ করলাম এদিকে একটা লঞ্চ আসছে।লঞ্চটা সবার নজরে পড়ল।কিন্তু কেও দোয়া ইয়ুনুস পড়া বন্ধ করলনা।সবাই একতালে সূর করে পড়ছে।সারেং খালেককে এতক্ষন খেয়াল করিনি।সে চিতকার দিয়ে বলে উঠল, ‘আই যার গৈ আই যার গৈ’

এর তরজমা আমি বুঝলাম না।সে যাওয়ার কথা বলছে নাকি আসার কথা বলছে?আসার কথা বলাটা যুক্তি সঙ্গত।কারন আরেকটা লঞ্চ আমাদের দিকে আসছে। কিন্তু তখন বলেছে “চাঁনপুর যার গৈ” মানে চাঁদপুর চলে যাচ্ছে। আমি খালেককে জিজ্ঞেস করলাম ‘আই যার গৈ আই যার গৈ’ এর মানে কি?সে আমার দিকে তাকিয়ে খুবই উতসাহের সাথে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করতে লাগল।

“আই যার গৈ” মানে চলে আসতেছে।কিন্তু “আই” শব্দের অর্থ হইতেছে আসা।আবার “আই” শব্দের অর্থ হইতেছে আমি। যেমন “আই যাইর গৈ” মানে আমি চলে যাচ্ছি আবার “আই যায়ুম গৈ” মানে আমি চলে যাব।

আমি চুপ করে রইলাম।সে থামার নাম নিচ্ছেনা।সামান্য ই কার নিয়ে অর্থের এত ঝামেলা।বড়ই বিচিত্র ভাষা।আমাকে রক্ষা করল আতর।সে খালেক কে ধমক দিয়ে বলল, ‘আপনি এখানে কি করতেছেন।যান যাত্রীদের ঐ লঞ্চে ট্রান্সফার করার ব্যবস্থা নেন। সবাই লাইনে দারিয়েছে।কারাও মধ্যে তেমন উল্লাস নেই।যেন আরেকটা লঞ্চ আসাটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।তাদের মধ্যে আর কোন রকম অস্থিরতা দেখা দিলনা।আমার বাবা তার উপদেস বানীতে তিনি লিখেছেন…

 

প্রিয় পুত্র হিমালয়।তুমি মানুষের চরিত্রকে খুব ভালো করে

পর্যবেক্ষন করিবে।তুমি তাদের মধ্যে খুবই অদ্ভুত কিছু

দেখিতে পাইবে।তারা খুব সহজেই তাদের বৈষিষ্ট পরিবর্তন করে আবার

খুব সহজেই পুর্বের আকারে ফিরে আসে।খুবই সুক্ষ্ ভাবে

লক্ষ করিলে তুমি বুঝিতে পারিবে প্রতিটি মানুষই অভিনয়ের

জালে আবদ্ধ।যে যার যার ভুমিকাই প্রতিনিয়ত অভিনয় করে যাচ্ছে।

বেশিরভাগ মানুষই তা না জেনে করে।তুমি অভিনয় করিবে

সচেতনতার সাথে।যখনি তুমি অভিনয় করিবে যেন কেউ তোমার উদ্দেশ্য

বুঝিতে না পারে।যেন তোমাকে নিয়ে কেউ ভবিস্যত বানী করিতে না পারে।

 

 

আমরা সবাই অন্য লঞ্চে চলে গেলাম।তৃষ্ণা আমার একটা হাত ধরল।আমি খুব সাবধানে আমার হাতটি সরিয়ে নিলাম।হিমুরা কখনো কোন মেয়ের হাত ধরেনা।সে আমার দিকে তাকিয়ে হাসলো।আমিও তার দিকে তাকিয়ে হাসলাম।পীর কুতুবির হাতে দেখলাম হাতকরা লাগানো।ইন্সপেক্টার জাকির হোসেন পীর কুতুবি থেকে একটু দূরে বসে আছে।আমি পীর কুতুবির দিকে এগিয়ে গেলাম।তৃষ্ণাও আমার সাথে আসছে।

‘পীর সাহেব,আপনার হাতে হাতকরা পড়িয়ে দিল কখন?’ পীর কুতুবি আমার দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে আছেন।তিনি বললেন, ‘সাংবাদিক ভাই, কি করব বলেন।জ্বিন কফিলের সাথে এই বিষয়ে অনেক্ষন কথা বল্লাম।তাকে বললাম তার দোষ স্বীকার করে নিতে কিন্তু সে কিছুতেই রাজি হবেনা।তাই তার উপর রাগ করে কনো ব্যবস্থা নিচ্ছিনা।তবে আমার বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত সে তার ভুল বুঝতে পারবে।

তৃষ্ণা বলল, ‘পীর সাহেব, আপনি বেচে যাবেন।পীর সাহেব তৃষ্ণার দিকে তাকিয়ে রহস্যময়ী হাসি দিল। তৃষ্ণাও রহস্যময়ী হাসী দিল।রহস্যে রহস্যে কাটা।আমরা প্রফেসর সাহেবের কাছে গেলাম।ওখানে দেখতে পেলাম ওনার ছাত্রী আর ওনি হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছে।মানুষ বড়ই বিচিত্র প্রানী।তার মধ্যে মেয়েরা আরো বিচিত্র।ব্যাপারটা শেক্সপিয়র ভালো করে বুঝতে পেরেছেন। “every women is a criminal. Sorry to my mother” প্রফেসর সাহেব, কেমন আছেন? তিনি আমার দিকে ভালো করে তাকাচ্ছেন না।মনে হয় লজ্জা পাচ্ছেন।আমি তার লজ্জাকে আরো খানিকটা বাড়িয়া দিয়ে বললাম, বরিশালে আপনার ক্লাইন্টকে কি জবাব দিবেন।এই লঞ্চটাতো মনে হয় আবার ফিরে যাচ্ছে।তিনি পুরপুরি হচকচিয়ে গেলেন।মানুষের এই চেহেরা দেখতে আমার খুব আনন্দ লাগে।আমি তাকে আরো হচকচিয়ে দিলাম।বললাম, এই লাইনে ভালোই টাকা ইনকাম করা যায়।সমস্যা একটাই কেউ যাতে চিনে ফেলতে না পারে।চিনে ফেললে সমস্যা।

তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আপনি আমাকে কিভাবে চিনেছেন’।

অনুমান করেছি।আমার অনুমান শক্তি খুব ভালো।

আমরা সেখানে আর দাড়ালাম না।তৃষ্ণা আমাকে বলল, তুমি উনাকে কিভাবে চিনলে? আমি তাকে বললাম, তুমি কিভাবে বুঝলে যে পীর কুতুবি বেঁচে যাবেন? সে আর কথা বলল না। আমরা এগিয়ে গেলাম রশিদ খানের দিকে।তিনি বসে আছেন একা।তিনি আমার দিকে তাকিয়ে হাসলেন। আমি তাকে বললাম, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।আপনি এত গুলো মানুষের প্রান বাচিয়েছেন।আপনি আরেকটা লঞ্চ কে খবর দিয়েছেন।

তিনি বললেন, হিমু সাহেব, বসুন। আপনার সাথে কিছুক্ষন কথা বলি।আমি তার কাছে বসলাম।তৃষ্ণাও আমার পাসে বসল।

রশিদ খান আমাকে বললেন, সব কিছু কেমন জানি শান্ত হয়ে গেছে।তিনি হুট করে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, আপনি কিভাবে বুঝলেন যে আমি আরেকটা লঞ্চ আনার ব্যাবস্থা করেছি?

‘আপনি ফোনে কথা বলার সময় আমি খেয়াল করেছি’

মনে হচ্ছে তিনি এখনো বিভ্রান্তিতে আছেন। রশিদ খান আমার দিকে তাকিয়ে আবারো বললেন, ‘তখন যে আমার স্ত্রী ফোন করেছে, সেটা কিভাবে বুঝলেন?’

আমার অনুমান শক্তি ভালো। আপনার চেহেরার এক্সপ্রেশন দেখে অনুমান করেছি।তবে এখন বুঝতে পারছি, আপনি মনে মনে ভাবছেন আতর মিয়াকে একটা শিক্ষা দিবেন।

এবার তিনি একটু নড়েচড়ে বসেছে।

তিনি বললেন, ‘তার কি শিক্ষা পাওয়া উচিত নয় মনে করছেন?’

‘অবস্যয় উচিত।কিন্তু আপনি যে কর্ম করেছেন, তার জন্য্ও আপনার শিক্ষা পাওয়া উচিত।আপনি নিশ্চয় চান্ না, আপনার মেয়ে বিষয়টি জানতে পারুক।

উনি এখন সূর্যের দিকে তাকিয়ে আছেন।উনি সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকুক। আমরা উঠে গেলাম।

তৃষ্ণা আমাকে বলল, ‘যাক আমরা কিছুক্ষনের মধ্যেই ঢাকা পৌছাব।সেখানেই কাজী অফিসে আমরা বিয়ে করব।আমাদের বাসর হবে আমার চাচার বাসাই। বাসর কিন্তু আমি নিজের হাতে সাজাব।বাই দ্যা ওয়ে তোমার কোন ফুল বেশী পছন্দ।

কদম ফুল। এখন বর্ষার সময়।কদম ফুল পাওয়া যাবে।

ঠিক আছে। কদম ফুল দিয়ে আমার মনে হয় জীবনে কারো বাসর সাজানো হয়নি। ওকে, কদম ফুলের সাথে আমার একটা পছন্দের ফুল থাকবে।আমার পছন্দের ফুল হচ্ছে বেলী।

তৃষ্ণা বাসর পর্যন্ত চিন্তা করে ফেলেছে।তার চিন্তা যেন পরের ধাপে অগ্রসর না হয়, আমি তাকে বললাম ‘তাহলে আমাদের অনেক প্রস্তুতি নিতে হবে।বিয়ের তারিখটা ফিক্সড করে ফেল। তৃষ্ণা বলল, আগামি সপ্তাহের এই দিনেই আমাদের বিয়ে হবে। আমাদের পরিচয়ের ঠিক এক সপ্তাহ পর।আমি বললাম, ঠিক আছে।

 

আমরা এখন লঞ্চ ঘাটে পৌছায় গেছি।সবাই চলে যাচ্ছে।নামার সময় পীর কুতুবির সাথে দেখা।উনাকে নিয়ে যাচ্ছে দুইজন কন্সট্যাবল।ইন্সপেক্টর যাকির হোসেন তার থেকে দূরে আছেন।তিনি মনে হয় ভালোই ভই পেয়েছেন।জাকির হোসেন আমার দিকে তাকিয়ে আছেন।কিন্তু কোন কথা বললেন না।আমি পীর কুতুবির দিকে তাকালাম।তিনি আমার দিকে হাসি মুখে তাকিয়ে বললেন, সাংবাদিক ভাই, চলে যাচ্ছি।ভুলত্রুটি করে থাকলে ক্ষমা করে দিয়েন।আমরা হচ্ছি আদম বংশ।ভুলত্রুটি করবনা এমন হতেই পারেনা।

আমি বললাম ঠিক আছে ক্ষমা করে দিলাম।

আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে আতর মিয়াকে কোথাও দেখা যাচ্ছেনা।আমি এদিক ওদিক তাকাচ্ছি।বুড়া মিয়াকে নামতে দেখা যাচ্ছে।আমি ওনার কাছে গেলাম।

‘বুড়া মিয়া মনে হচ্ছে আরো কিছুদিন বাচবেন’

‘বুড়া মিয়া বলল, বাবা হায়াত মৌত সব আললাহর হাতে।তিনি যতদিন বাচায়া রাখেন’

 

তৃষ্ণা আমার কাছে আমার ঠিকানা আর মোবাইল নাম্বার চাইল।আমি তাকে রুপাদের ঠিকানা দিয়ে দিলাম।আমি তাকে বললাম, তুমি এতক্ষন কোথাই ছিলে।

ফোন করতে গেছি।আমাকে এখানে অপেক্ষা করতে হবে।কেউ একজন আমাকে নিতে আসবে।আমি বললাম, ঠিক আছে তুমি অপেক্ষা কর। আমি যাই।

আমি ওকে আর কথা বলার সুযোগ দিলাম না।আমি ওখান থেকে সরে গেলাম।এই মেয়ের সাথে বেশিক্ষন থাকা যাবেনা।

 

আমি আমার মেসে ফিরে আসলাম।কেন জানি আজ মেসটাকে খুব আপন মনে হচ্ছে।মেসের ম্যানাজার মকবুল আমার দিকে তাকিয়ে বলল, হিমু ভাই এতদিন কোথাই ছিলেন? একটু নদী দেখতে গিয়েছিলাম।আমার খোজে কি কেউ এসেছিল?

জ্বি।

কে এসেছিল?

আপনার ফুফাতো ভাই বাদল।আপনাকে খুব আর্জেন্ট তার সাথে দেখা করতে বলেছে।

বাদলের সব কাজেই আর্জেন্ট হয়।এখন আমার আর্জেন্ট কাজ হচ্ছে গোসল করে লম্বা একটা ঘুম দেয়া।এছাড়া আমার আর কোন আর্জেন্ট কাজ নেই।আমি গোসল করে ঘোমোতে গেলাম।বিছানাই শোয়া মাত্র আমার ঘুম এসে গেছে।ঘুমের মধ্যে বাবাকে স্বপ্ন দেখলাম।তিনি পীর কুতুবির সাথে কথা বলছেন।আবার দেখলাম তিনি আমার দিকে আসছেন।আমার পাশে বসেছেন।

হিমু তোর রুপাকে বেশী পছন্দ নাকি তৃষ্ণাকে?

কেন?বাবা।

আমি ঠিক করেছি,তোর বিয়ে দিব।পীর কুতুবির সাথে কথা হয়েছে।তার নাকি সময় নেই।দুইদিন পর তাকে ফাঁসি দিয়ে দিবে।

আমি ঘুমের মধ্যে ভাবতে লাগলাম।

বাবা বলল, হিমু তুই কি শুরু করেছিস?তুই তোর গন্তব্য থেকে সরে যাচ্ছিস।

আমার গন্তব্য কোথাই?

তোর গন্তব্য হচ্ছে মহা পুরুষ হওয়া।

তুমি কিছুক্ষন আগে আমার বিয়ের কথা বললে না বাবা?

ওটা আমি ছিলাম নারে বোকা।ওটা ছিল তোর মনের সয়তান।ও তোকে ঘোলাচ্ছে।তোর খুবই সাবধান হতে হবে।

আমি সাবধান আছি বাবা।তুমি এখন যাও। আমাকে ঘুমাতে দাও।

আচ্ছা ঠিক আছে তুই ঘুমা।আমি একটু পীর কুতুবির সাথে কথা বলে আসি।

আমার ঘুম ভাংল ভোর চারটাই।আমি টানা পনের ঘন্টা ঘুমিয়েছি।বাইরে তাকিয়ে দেখি এখনো অন্ধকার।আমার প্রচন্ড ক্ষিদা লেগেছে।দুই গ্লাস পানি খেলাম।পানি খাওয়ার পর আরো খারাপ লাগছে।বাবাকে পীর কুতুবির সাথে কেন স্বপ্ন দেখলান ব্যাপারটা বুঝতে পারছিনা।পীর কুতুবি তার স্ত্রীকে খুন করেছে।এর মধ্যে কি কোন যোগসূত্র আছে?

আজ মনে হচ্ছে কিছু একটা ঘটবে। কি ঘটবে বুঝতে পারছিনা।লঞ্চের ঘঠনাটা ঘঠেছে আজ তিন দিন হল।এই তিন দিনে মনে হয় রুপার বারোটা বেজে গেছে।তৃষ্ণা অবস্যয় রুপাদের বাড়িতে গিয়ে হাজির হবে।রুপাকে একটা ফোন করা দরকার।আমি পাশের ঔষধের দোকানে গেলাম।দোকানের ছেলেটা আমাকে দেখে ব্যাস্ত হয়ে পড়ল।

 

হিমু ভাই ফোন করবেন?

আমি কিছু না বলে শুধু মাথা নাড়লাম।সে আমাকে একটা কোনাই বসতে দিল।পাশে পেপারের উপর চোখ পড়ল।এমনিতে আমি পেপার পড়তে অভ্যস্থ না।কিন্তু প্যাপারে যা দেখলাম তা দেখে মোটামোটি আমি ভড়কে গেলাম। পেপারে পীর কুতুবির একটা ছবি আছে।সেখানে তিনি একটি তসবি হাতে দাঁড়িয়ে আছে।

নিজস্ব সংবাদ দাতা

 

 

মিরাক্কল বলতে যা বুঝাই তা হয়েছে হাবীব কুতুবির জিবনে(৫৫)।

তিনি তার দুই স্ত্রী ও এক শালী কে খুন করেছেন।কিন্তু তিনি দাবি করছেন খুন তিনি করেন নি।খুন করেছে তার পালক জ্বিন কফিল।তাকে ফাসীর জন্য দার করানো হয়েছে।যখনি জল্লাদ হ্যান্ডাল টান দিল,দড়ি ছিড়ে তিনি সাথে সাথে নিচে পড়ে গেলেন।পরে তাকে আর ফাসি দেয়া হয়নি।তাকে আদলত কর্তিক ক্ষমা ঘোসিত করা হয়েছে।এই বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, জ্বিন কফিল শেষ পর্যন্ত তার ভুল বুঝতে পেরেছে।এবং সময় মত সে ফাসির দড়ি ছিরে দিয়েছে।ঘঠনাটি ঘটার পর তার মুরিদের সংখ্যা এখন প্রচুর।পুলিশ থেকে জানা যায়, তারা নিজেরাও হতভম্ব কিন্তু দড়িটা ভেজা ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।এই নিয়ে তারা আর কোন কথা বললেন না।এই বিষয়ে উক্ত এলাকার জন সাধারনের কাছে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যাই, পীর হাবীব কুতুবি একজন অলৌকিক ক্ষমতাধর মানুষ।এলাকাবাশী জানান, তাকে নাকি কেউ কেউ শুন্যে ভেসে থাকতে দেখেছে।তারা আরো জানান, তার কাছ থেকে পানি পড়া খেয়ে স্থানীয়দের রোগ নিরাময়  হচ্ছে।আমরা স্থানীয় স্বাস্থ কম্লেক্সে রোগ নিরাময়ের কথা জানতে চাইলে, পরিচয় গোপন রাখতে ইচ্ছুক একজন ডাক্তার জানান, এগুলো কুসংস্কার ছাড়া কিছুই নয়।এটা একধরনের অপচিকিতসা।বর্তমান যুগে এসব বিশ্বাস করার মত কোন যুক্তি নেই।

 

 

আমি পেপার পড়ে রুপাকে ফোন করলাম।আজ ভাগ্য ভালো রপা ফোন ধরেছে।

হ্যালো কে হিমু?

তুমি কিভাবে বুঝেছ আমি ফোন করেছি।

বুঝিনি।যেই ফোন করছে, তাকে হিমু নাকি জিজ্ঞেস করছি।আচ্ছা তুমি নিজেকে কী মনে কর?

আমি নিজেকে হিমু মনে করি।

তোমার এইসব ফাইজলামো কথা বাদ দাও।তোমার একটা চিঠি আছে আমার কাছে।তৃষ্ণা নামের একটা মেয়ের।

চিঠিটা তুমি পড়েছ?

তোমার চিঠি আমি পড়ব কেন?

তাও ঠিক।

তুমি ওকে আমাদের বাসার ঠিকানা দিয়েছ কেন?এদিকে বাবা এটা নিয়ে হৈচৈ শুরু করেছে।

রুপা শুনো, তুমি একটা কাজ কর। চিঠিটা খুলে আমাকে পড়ে শোনাও।

তোমার চিঠি আমি পড়ব কেন?

তুমি এমনিতেই চিঠিটা পড়েছ।এখন আমাকে পড়ে শুনাবে।

রুপা চিঠি পড়া শুরু করল।

হিমু, তোমার সাথে লঞ্চে কিছু মুহুর্ত আমার জিবনের শ্রেষ্ট মুহুর্থ ছিল।ঐ মুহুর্থ আমি আজিবন মনে রাখব। সেদিন বুঝতে পারলাম তুমি খুবই অহংকারী একটা ছেলে।তুমি নিজের চারিদিকে সব সময় রহস্য তৈরি করে রাখ।তুমি অনেক স্বাধীনচেতা মানুষ এবং তোমার কোন পিছুটান নেই। আবার পিছুটান সৃষ্টি করে এমন কিছু তুমি জিবনে করবেনা।আমার মত অনেক মেয়ে হয়ত তোমার প্রেমে পড়েছে।কারন তুমি এমন কিছু কর যা দেখে মেয়েরা মুগ্ধ হয়।আমি তোমাকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ভালবেসেছি।তোমাকে নিয়ে বাসরের স্বপ্ন দেখেছি।কিন্তু আমি জানি তুমি আমার সাথে এ নিয়ে হেয়ালি করেছে। আমি তোমার হেয়লিপনা খুব ভালো করে বুঝতে পেরেছি।তবুও তোমাকে ভালবেসেছি।তোমার হেয়ালিপনায় আমাকে তোমার কাছে নিয়ে এসেছে।আমি আমাদে বাসর সাজাবো কদম ফুল আর বেলী ফুল দিয়ে।যেদিন আমরা বিয়ের তারিখ ঠিক করেছি, সেদিন আমি বাসর সাজাবো।তুমি হবে আমার কল্পনার স্বামী।তুমি সব কিছু পারলেও তোমাকে ভালোবাসা থেকে আমাকে বিরত রাখতে পারবেনা।আমি তোমাকে সারা জীবন ভালবাসব।আমি জিবনে কাওকেই বিয়ে করবেনা। তোমার নিজেরও শাস্থি পাওয়া উচিত। যখনি আমার কথা তোমার মনে পড়বে তুমি কষ্ট পাবে।এটাই তোমার শাস্থি।ভালো থেকো।

রুপা মনে হচ্ছে কাঁদছে।কাঁদাটা সম্পূর্ন ব্যাক্তিগত ব্যাপার।আমি ফোন রেখে দিলাম।কারো ব্যক্তিগত ব্যাপারে নাক গলানো ঠিক না।আমি হেটে চলেছি ঢাকার রাজপথে।আমি এই পথের রাজা।

নববর্ষ ও বাঙালি।

বাংলা নববর্ষ শুরু হওয়ার আগে থেকেই নতুন বছরকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বাঙালীরা অনেক আয়োজন করে থাকে। নানান রকম ফেস্টুন, রঙ্গিন মুখোস ও আলপনা দিয়ে সাজিয়ে তোলে সমস্ত দেশ। ভোরে বের হয় মঙ্গল শোভা যাত্রা। সব মিলিয়ে এক মনোরম পরিবেশ। এ যেন সমস্ত বাঙালীর মিলন মেলা। কিন্তু কিছু অনুর্ভর মস্তিষ্কের মানুষ সমালোচনা করা থেকে বিরত থেকে নেই। যেমন অনেকে বলেন “এটি হিন্দুদের সংস্কৃতি মুসলমানদের জন্য সম্পূর্ণ হারাম” আবার কেও কেও বলে থাকেন “বৈশাখ মাস আসলেই মানুষের মনে একদিনের জন্য বাঙালি চেতনা উজ্জীবিত হয়” একইভাবে নিন্দুকেরা একুশে ফেব্রুয়ারিতেও বলা থেকে বিরত থাকেনা। হুমায়ুন আজাদের মত বলতে হয় যারা এমনটা বলে, তারা না ধার্মিক না বাঙালি। এরা অন্যকিছু। ইডেন গার্ডেন(বেহেস্ত) থেকে যাকে প্রথমে বিতাড়িত করা হয়েছিল এরা সে গোত্রীয়। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই তাদের নিজস্ব পঞ্জিকা গণনা করে থাকে। বর্তমানে ইংরেজি পঞ্জিকা সর্বজনীন ভাবে গৃহীত। কিন্তু এ অঞ্চলের ঋতু বৈচিত্র্যের কারণে কৃষি উৎপাদন ও খাজনা দেয়ার ক্ষেত্রে ইংরেজি পঞ্জিকার সাথে বিভ্রান্তির হওয়ার ফলে  তৎকালীন সম্রাট আকবরের দ্বারা বাংলা বর্ষ পঞ্জিকা প্রচলিত হয়েছিল। এটি না মুসলমানদের সংস্কৃতি না হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি এটি বাঙালীর সংস্কৃতি। যারা বলে থাকেন একদিনের বাঙালি তাদেরকে বলি, ফেব্রুয়ারি মাসে ভাষা নিয়ে আলোচনা না করে কি ডিসেম্বর মাসে করা হবে নাকি আপনারা রমজান মাসের পরিবর্তে শাওয়াল মাসে ফরজ রোজা আদায় করেন? এসমস্ত লোকদের আর কোন কাজ নেই এদের কাজ জাতিগত বিভেদ বাধানো। আমরা যে মানুষ, আমরা সবাই দেখতে মানুষের মত এই জাতটি কি যতেষ্ঠ নয়? চলুন মানুষ কিভাবে হওয়া যায় তা শেখার চেষ্টা করি…

মানুষ কাকে বলে?

আমাকে একদিন প্রশ্ন করা হয়েছিল মানুষ কাকে বলে। প্রশ্নটা শুনেই আমি হতভম্ব। এজাতিয় প্রশ্ন এর আগে আমি কখনো শুনিনি। আমি নিজেকে সামলিয়ে নিলাম। আর ভাবতে লাগলাম মানুষ কাকে বলে। আপনি বলুনতো মানুষ কাকে বলে? আমি আমার উত্তর এভাবে দেয়ার চেষ্টা করেছি।

উঃ আমি প্রথমে কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোজার চেষ্টা করেছি। এগুলো খুঁজতে গিয়ে আমি আরও অনেক তথ্য জানলাম এবং আমার মনে আরও কিছু প্রশ্নের উদয় হল। সে যায় হোক মুল কথা হচ্ছে মানুষের সংজ্ঞা কি? মানুষের মত দেখলেই কি তাকে মানুষ বলা যায়?  বিষয়টা সম্পূর্ণ মনুষ্যত্বের সাথে সম্পৃক্ত। সৃষ্টির সকল প্রাণীগুলোর সাথে মানুষের পার্থক্যটা আপাতদৃষ্টিতে ব্যাপক মনে হলেও আমি সুক্ষ্য ভাবে খোজার চেষ্টা করেছি। বিড়ালের সাথে কুকুরে পার্থক্য কি তা যে কেও বলতে পারে একই ভাবে মানুষের সাথে উভয়ের পার্থক্যও বলা যায় কিন্তু মানুষকে যখন সৃষ্টির সেরা বলে দাবি করা হয় তখন ব্যাপারটা একটা ভিন্ন রূপ নেই। মানুষের মনুষ্যত্ব নামক বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে কিন্তু তুমি কি বলতে পারো যে এই কুকুরের কুকুরত্ব আছে অথবা এই বিড়ালের বিড়ালত্ব ব্যাপক? প্রায় ৬-৭ মিলিয়ন বছর পূর্বে মানুষ আর শিম্পাঞ্জি একই সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে দুটি ভিন্ন ধারায় বিবর্তিত হয়েছে যাদের আত্বীয় স্বজনেরা এখনো এ্যানিমেল বলেই গণ্য। মানুষদেরকে অন্যান্য প্রাণী থেকে পার্থক্য করার জন্য হাত, মস্তিষ্ক ও তার ভাষাই যথেষ্ট। মানুষ দুই পায়ে হাটে এবং অন্য দু পায়ে ( যা এখন হাত হয়ে বিবর্তিত) তার পরিশ্রমের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তার মস্তিষ্কের সাহায্যে সে সভ্যতা বানাতে সক্ষম হয়েছে এবং ভাষার সাহায্যে তা সংরক্ষণ করতে পেরেছে। এরই মাঝে মানুষের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য গুলো প্রকাশ পেয়েছে এবং এখনো পাচ্ছে। তার মধ্যে মনুষ্যত্ব একটি যা একক মানুষটি কে স্বতন্ত্র করে ফেলেছে। এই মনুষ্যত্বের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতই মানুষকে সমষ্টিগত স্বপ্ন ও ব্যাক্তি স্বপ্ন দেখতে প্রেরণা দেয়। সকল সৃষ্টির কল্যাণের স্বপ্নই হচ্ছে সমষ্টিগত আর একক কল্যাণের স্বপ্নই হচ্ছে ব্যক্তি গত। যেহেতু একক ব্যক্তি সমষ্টিগত ব্যাক্তিতে অন্তর্ভুক্ত সেহেতু সেও পরোক্ষ ভাবে নিজের দ্বারাই প্রতারিত হয় ব্যাক্তি স্বপ্নে। যা সম্পূর্ণ অজ্ঞাত কিন্তু অজ্ঞতাবশত। গ্রীক দার্শনিক সেক্রেটিসের একটি উক্তি মনে পরছে “বুদ্ধিমান ব্যাক্তি কখনো অন্যায় কাজ করতে পারেনা”। মানুষ কিভাবে জরা দুঃখ এসব থেকে মুক্তি পাবে তা নিয়ে মহামতি বুদ্ধের অনেক নীতি রয়েছে। সকল মনিষী গন একটি কমন কথা বলেছে তা হচ্ছে মনুষ্যত্বের বিকাশ যা এক মাত্র সঠিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে খুব সহজ হয়। মনুষ্যত্ববিহিন মানুষকে আমি কখনো মানুষ বলে সমর্থন করিনি। তবে মনুষ্যত্ব অর্জন করা সম্ভব।

 

তোমার মতে জীবনের পথ অতিক্রম করার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট পথ কী ?

কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধু আমাকে sms পাঠালো তার sms টি ছিল এরকম।

 

তোমার মতে জীবনের পথ অতিক্রম করার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট পথ কী ?

 

প্রশ্নটির দিকে আমি অনেক্ষন তাকিয়ে ছিলাম।sms এর মাধ্যমে তার প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব হইনি। কারন আমাদের জীবন তো আর একটি অংশে সীমাবদ্ধ নই।বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন ঘটনা।বিভিন্ন ঘটনা কে ঘিরে বিভিন্ন সমস্যা।বিভিন্ন সমস্যার বিভিন্ন সমাধান।

 

আমি তাকে দীর্ঘ একটি চিঠি লিখলাম।

 

প্রিয় বন্ধু

 

তোমার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে তোমাকে একটি গল্প শোনানোর প্রয়োজন মনে করছি।

 

সুমন একটি মুসলিম সম্ব্রান্ত পরিবারের ছেলে।তার বাবা হামিদ সাহেব মসজিদে ইমামতি করেন।তারা যৌত পরিবারে বসবাস করে।যে এলাকাই তারা বাস করে সেখানে তাদেরকে সবাই শ্রদ্ধা করে।

সে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বীতিয় বর্ষের ছাত্র।মাঝারি আক্রিতির হালকা বর্ণের সাদামাটা একটি ছেলে। আট দশটা ছেলের মতই তার চলাফেরা।বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে সে নানান ধরনের মানুষের সাথে মিলিত হল।এখানে এসে সে উপলদ্ধি করতে অনুপ্রানিত হয়েছে যে সকল মানুষই ভিন্ন।একেক মানুষ একেক রকম বৈষিষ্টের অধিকারি।একেক জন মানুষ একেক রমম হই কেন? এই “কেন” প্রশ্নটি করে সে এক গভীর ভাবনাই ডুবে গেল।মানুষের স্বভাব কেন ভিন্ন হই সে এর কিছু কারন খুজে পেল, অবশ্যি কারন পেতে তার বিভিন্ন তাত্তিক বইইয়ের সরানপন্ন হতে হয়েছে।

 

 

    1. তার পিতা মাতার কাছ থেকে পাওয়া জ্বিন গত বৈষিষ্ট।

 

    1. উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ধর্মের প্রভাব।

 

    1. পরিবেস ও সংস্কৃতি।

 

    1. বিভিন্ন মানুষের সংস্পর্শের প্রভা্ব।

 

    1. সময়ের সাথে মানুষিক ও শারীরিক পরিবর্তন।

 

    1. এসকল কিছুর সমন্বয়ে তার নিজ সত্তার বিকাস।

 

উপরিউক্ত কারন সবার ক্ষেত্ত্রে এক নই বিধাই ভিন্ন ভিন্ন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের অধিকারি হই।একটি ছেলে যখন কোন মুসলিম পরিবারে জন্মাই তখন থেকেই সে যে পরিবেশটি পাই তা তার মশ্তিষ্ককে প্রভাবিত করে।একি ব্যাপার হিন্দু বৌদ্ধ, খৃষ্টান,শীক,জৈন,ইহুদি,কনফুসিয়াস,তাও,শিন্টো এবং দুনিয়ার বাকি সব ধর্মালম্বির ক্ষেত্রে হই।আবার এদের বিভিন্ন শাখা প্রশাখা রয়েছে এই কারনেও প্রভাবিত হওয়ার মাত্রা ভিন্ন হই। নিচে ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন শাখা প্রসাখার একটি ছবি দেয়া হল

 

 

কোন শিশুকে যদি জন্মের পরে জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসা হই এবং সে যদি সেখানে কোনভাবে বেচে যাই এবং সভ্য সমাজের সভ্যতার ছোয়া না পাই তাহলে সে যখন বড় হবে তখন তার কাছে সভ্যতা আসা করাতো অনেক দুরের ব্যাপার তাকে কাপোর পরানোও মুশকিল হইয়ে দাড়াবে।কারন সে তার পরিবেশ দারা ভিন্নভাবে প্রভাবিত হইয়েছে।

এই সকল কিছু জানার পরে সুমনের কৌতুহল আরো বেরে গেলো।কোতুহলবশত সে আরো পড়াশোনা করতে লাগলো।বিজ্ঞান,ধর্ম,দর্শন এবং এদেরকে ঘিরে ইতিহাস সব কিছুই সে পড়তে আরম্ভ করলো।কোন বইয়র কোন বাক্যে সংশই দেখলে সে সংশই দুর করার জন্য সে উঠে পরে লাগতো।এর ফলে তার আচরনের বিরাট পরিবর্তন দেখা দিল।সে চতুর্দিকে তাকিয়ে আবিস্কার করল এ এক বিরাট নাট্য শালা।এখানে বিভিন্ন ধর্মের শ্রেনী বিভাজন,সমাজ ব্যাবস্থা,রাজনীতি,অপসংস্কৃতি,কুসংস্কার ও স্বার্থ লোভি মানুষের ভীরে নিজেকে খুবই একা বোধ করল।এভাবে কিছুদিন গত হল।একদিন তার বাবা তাকে ডকে বললো,”বাবা অমুক সাহেব কে এই দশ হাজার টাকা দিয়ে আসো।”

 

অমুক সাহেব একজন সরকারী ঘুসখোর কর্মচারি।তার বুঝতে বাকি রইলোনা যে এগুলো অমুক সাহেবকে ঘুস দেয়া হচ্ছে।তার বাবার সামনে সে প্রতিবাদ করে বললো,”বাবা ঘুস দেয়াতো অপরাধ।আপনার মত একজন ধার্মিক মানুষ ঘুস দিচ্ছে আমার ভাবতে ঘৃণা হচ্ছে।”

 

হামিদ সাহেব তাকে সান্তভাবে বললো, “বাবা আমি জানি ঘুস দেয়া নেয়া অপরাধ কিন্তু আমি পরিস্থিতি ও সময়ের কাছে বাধ্য।আমাদের এই পূর্বপুরুষের জমিগুলোতে কোন প্রকার ভেজাল নেই।এই জমি গুলো আমি মিউটিশন করতে চাই।এই মুহুর্তে মিউটিশন করতে না পারলে আমি এগুলো বিক্রয় করতে পারবনা।বিক্রই করতে না পারলে তমার বড় বোনের বিবাহ দিতে পারবনা।ছেলে পক্ষের দাবী সমূহ পূরন করতে পারবনা।তাই আমি ঘুস দিতে বাধ্য হচ্ছি।”

এবার সুমনের প্রেক্ষাপটে তমার উত্তর দেয়ার চেষ্টা করি।

 

1.“তুমি যা বুঝবে তা বলবেনা।যা বলবে তা করবেনা।”

 

ধর্ম সম্পর্কে সুমনের যে ধারনাটি হয়েছে তা বিবেচনা করলে বুঝা যাই সে ধর্মে বিশ্বাসী নই।ধর্ম সম্পর্কে সে যা বুঝেছে তা তার বলা ঠিক হবেনা।তার বিপরীত বলা উচিত কিংবা তার ধারনা তার অতি প্রিয় আত্বীয়দের সামনে উম্মেচন করা উচিত হবেনা।

ধরে নেয়া যাক সে বিদ্রহ করেছে।তাহলে সে কি একঘরে হইয়ে যাবেনা?তার পরিবার,আত্বীয় স্বজন ও পারাপ্রতিবেশী তাকে ধিক দিবেনা।তখন সে সংখ্যালগুদের মধ্যে পরে যাবে। সুতরাং তার জন্য ভাল হই 1 নম্বর নীতিটি অনুসরন করা।

 

2. “সব কিছুর উর্ধে যুক্তি, যুক্তির উর্ধে প্রয়োজন। কারন সব কিছুর উর্ধে যুক্তি।

 

সে যুক্তিবাদি একথা পরিস্কার।সে যুক্তিকে প্রাধান্য দিয়েছে বিধায় এত কিছু জানার আগ্রহি হইয়েছে।এখন তার উচিত হবে তার বাবার মত প্রয়োজন কে প্রাধান্য দেয়া।সে যদি এই নীতি অনুসরন না করে তাহলে সংখ্যালঘুদের মধ্যে পরে যাবে যা আগেই বলেছি।তার বাবার হামিদ সাহেব জানেন যে ঘুশ দেয়া নেয়া অপরাধ। তা জানা সত্ত্বেও উনি প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়েছে।কারন অই মুহুর্তে ওটাই যুক্তি।

 

3. ” ক্ষেত্র বিষেশে অভিনইয় করতে হবে,পরিস্থিতিকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং মনুষত্যকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিটি মুহুর্থকে আনন্দময়ী করে তুলতে হবে।”

সে যদি উপরের নীতি গুল অনুসরন করতে চাই তাহলে অবস্যই তাকে প্রতিনিয়ত অভিনয় করে যেতে হবে।কারন পরিস্তিতি অনুকুলে নই।তার উচিত হবে মনুষত্য চর্চা করা এবং বাচার তাগীদেই জিবনকে আনন্দমইয়ী করে তোলা।

 

বিজ্ঞানী গ্যালীলিও’র কথা চিন্তা করি। তিনি যখন বলেছেন প্রিথিবী ঘুরছে তখন তাকে কারাদন্ড দেয়া হল এবং পরিস্থিতির কারনেই বলতে বাধ্য হল প্রিথিবী স্থীর।জেনেশুনে উনি বলেছেন প্রিথিবী স্থীর কিন্তু মানেননি।যুক্তি বলে প্রিথিবী ঘুরছে কিন্তু তিনি প্রয়োজনকেই প্রাধান্য দিয়েছেন কারন তার জন্য তখন ওটাই যুক্তি।সত্য কে চেপে রেখে মিথ্যা বলাওত অভিনই।তবুও কি প্রিথিবী থেমে আছে ?

তোমার মতে জীবনের পথ অতিক্রম করার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট পথ কী ?

কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধু আমাকে sms পাঠালো তার sms টি ছিল এরকম।

 

তোমার মতে জীবনের পথ অতিক্রম করার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট পথ কী ?

 

প্রশ্নটির দিকে আমি অনেক্ষন তাকিয়ে ছিলাম।sms এর মাধ্যমে তার প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব হইনি। কারন আমাদের জীবন তো আর একটি অংশে সীমাবদ্ধ নই।বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন ঘটনা।বিভিন্ন ঘটনা কে ঘিরে বিভিন্ন সমস্যা।বিভিন্ন সমস্যার বিভিন্ন সমাধান।

 

আমি তাকে দীর্ঘ একটি চিঠি লিখলাম।

 

প্রিয় বন্ধু

 

তোমার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে তোমাকে একটি গল্প শোনানোর প্রয়োজন মনে করছি।

 

সুমন একটি মুসলিম সম্ব্রান্ত পরিবারের ছেলে।তার বাবা হামিদ সাহেব মসজিদে ইমামতি করেন।তারা যৌত পরিবারে বসবাস করে।যে এলাকাই তারা বাস করে সেখানে তাদেরকে সবাই শ্রদ্ধা করে।

সে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বীতিয় বর্ষের ছাত্র।মাঝারি আক্রিতির হালকা বর্ণের সাদামাটা একটি ছেলে। আট দশটা ছেলের মতই তার চলাফেরা।বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে সে নানান ধরনের মানুষের সাথে মিলিত হল।এখানে এসে সে উপলদ্ধি করতে অনুপ্রানিত হয়েছে যে সকল মানুষই ভিন্ন।একেক মানুষ একেক রকম বৈষিষ্টের অধিকারি।একেক জন মানুষ একেক রমম হই কেন? এই “কেন” প্রশ্নটি করে সে এক গভীর ভাবনাই ডুবে গেল।মানুষের স্বভাব কেন ভিন্ন হই সে এর কিছু কারন খুজে পেল, অবশ্যি কারন পেতে তার বিভিন্ন তাত্তিক বইইয়ের সরানপন্ন হতে হয়েছে।

 

 

    1. তার পিতা মাতার কাছ থেকে পাওয়া জ্বিন গত বৈষিষ্ট।

 

    1. উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ধর্মের প্রভাব।

 

    1. পরিবেস ও সংস্কৃতি।

 

    1. বিভিন্ন মানুষের সংস্পর্শের প্রভা্ব।

 

    1. সময়ের সাথে মানুষিক ও শারীরিক পরিবর্তন।

 

    1. এসকল কিছুর সমন্বয়ে তার নিজ সত্তার বিকাস।

 

উপরিউক্ত কারন সবার ক্ষেত্ত্রে এক নই বিধাই ভিন্ন ভিন্ন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের অধিকারি হই।একটি ছেলে যখন কোন মুসলিম পরিবারে জন্মাই তখন থেকেই সে যে পরিবেশটি পাই তা তার মশ্তিষ্ককে প্রভাবিত করে।একি ব্যাপার হিন্দু বৌদ্ধ, খৃষ্টান,শীক,জৈন,ইহুদি,কনফুসিয়াস,তাও,শিন্টো এবং দুনিয়ার বাকি সব ধর্মালম্বির ক্ষেত্রে হই।আবার এদের বিভিন্ন শাখা প্রশাখা রয়েছে এই কারনেও প্রভাবিত হওয়ার মাত্রা ভিন্ন হই। নিচে ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন শাখা প্রসাখার একটি ছবি দেয়া হল

 

 

কোন শিশুকে যদি জন্মের পরে জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসা হই এবং সে যদি সেখানে কোনভাবে বেচে যাই এবং সভ্য সমাজের সভ্যতার ছোয়া না পাই তাহলে সে যখন বড় হবে তখন তার কাছে সভ্যতা আসা করাতো অনেক দুরের ব্যাপার তাকে কাপোর পরানোও মুশকিল হইয়ে দাড়াবে।কারন সে তার পরিবেশ দারা ভিন্নভাবে প্রভাবিত হইয়েছে।

এই সকল কিছু জানার পরে সুমনের কৌতুহল আরো বেরে গেলো।কোতুহলবশত সে আরো পড়াশোনা করতে লাগলো।বিজ্ঞান,ধর্ম,দর্শন এবং এদেরকে ঘিরে ইতিহাস সব কিছুই সে পড়তে আরম্ভ করলো।কোন বইয়র কোন বাক্যে সংশই দেখলে সে সংশই দুর করার জন্য সে উঠে পরে লাগতো।এর ফলে তার আচরনের বিরাট পরিবর্তন দেখা দিল।সে চতুর্দিকে তাকিয়ে আবিস্কার করল এ এক বিরাট নাট্য শালা।এখানে বিভিন্ন ধর্মের শ্রেনী বিভাজন,সমাজ ব্যাবস্থা,রাজনীতি,অপসংস্কৃতি,কুসংস্কার ও স্বার্থ লোভি মানুষের ভীরে নিজেকে খুবই একা বোধ করল।এভাবে কিছুদিন গত হল।একদিন তার বাবা তাকে ডকে বললো,”বাবা অমুক সাহেব কে এই দশ হাজার টাকা দিয়ে আসো।”

 

অমুক সাহেব একজন সরকারী ঘুসখোর কর্মচারি।তার বুঝতে বাকি রইলোনা যে এগুলো অমুক সাহেবকে ঘুস দেয়া হচ্ছে।তার বাবার সামনে সে প্রতিবাদ করে বললো,”বাবা ঘুস দেয়াতো অপরাধ।আপনার মত একজন ধার্মিক মানুষ ঘুস দিচ্ছে আমার ভাবতে ঘৃণা হচ্ছে।”

 

হামিদ সাহেব তাকে সান্তভাবে বললো, “বাবা আমি জানি ঘুস দেয়া নেয়া অপরাধ কিন্তু আমি পরিস্থিতি ও সময়ের কাছে বাধ্য।আমাদের এই পূর্বপুরুষের জমিগুলোতে কোন প্রকার ভেজাল নেই।এই জমি গুলো আমি মিউটিশন করতে চাই।এই মুহুর্তে মিউটিশন করতে না পারলে আমি এগুলো বিক্রয় করতে পারবনা।বিক্রই করতে না পারলে তমার বড় বোনের বিবাহ দিতে পারবনা।ছেলে পক্ষের দাবী সমূহ পূরন করতে পারবনা।তাই আমি ঘুস দিতে বাধ্য হচ্ছি।”

এবার সুমনের প্রেক্ষাপটে তমার উত্তর দেয়ার চেষ্টা করি।

 

1.“তুমি যা বুঝবে তা বলবেনা।যা বলবে তা করবেনা।”

 

ধর্ম সম্পর্কে সুমনের যে ধারনাটি হয়েছে তা বিবেচনা করলে বুঝা যাই সে ধর্মে বিশ্বাসী নই।ধর্ম সম্পর্কে সে যা বুঝেছে তা তার বলা ঠিক হবেনা।তার বিপরীত বলা উচিত কিংবা তার ধারনা তার অতি প্রিয় আত্বীয়দের সামনে উম্মেচন করা উচিত হবেনা।

ধরে নেয়া যাক সে বিদ্রহ করেছে।তাহলে সে কি একঘরে হইয়ে যাবেনা?তার পরিবার,আত্বীয় স্বজন ও পারাপ্রতিবেশী তাকে ধিক দিবেনা।তখন সে সংখ্যালগুদের মধ্যে পরে যাবে। সুতরাং তার জন্য ভাল হই 1 নম্বর নীতিটি অনুসরন করা।

 

2. “সব কিছুর উর্ধে যুক্তি, যুক্তির উর্ধে প্রয়োজন। কারন সব কিছুর উর্ধে যুক্তি।

 

সে যুক্তিবাদি একথা পরিস্কার।সে যুক্তিকে প্রাধান্য দিয়েছে বিধায় এত কিছু জানার আগ্রহি হইয়েছে।এখন তার উচিত হবে তার বাবার মত প্রয়োজন কে প্রাধান্য দেয়া।সে যদি এই নীতি অনুসরন না করে তাহলে সংখ্যালঘুদের মধ্যে পরে যাবে যা আগেই বলেছি।তার বাবার হামিদ সাহেব জানেন যে ঘুশ দেয়া নেয়া অপরাধ। তা জানা সত্ত্বেও উনি প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়েছে।কারন অই মুহুর্তে ওটাই যুক্তি।

 

3. ” ক্ষেত্র বিষেশে অভিনইয় করতে হবে,পরিস্থিতিকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং মনুষত্যকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিটি মুহুর্থকে আনন্দময়ী করে তুলতে হবে।”

সে যদি উপরের নীতি গুল অনুসরন করতে চাই তাহলে অবস্যই তাকে প্রতিনিয়ত অভিনয় করে যেতে হবে।কারন পরিস্তিতি অনুকুলে নই।তার উচিত হবে মনুষত্য চর্চা করা এবং বাচার তাগীদেই জিবনকে আনন্দমইয়ী করে তোলা।

 

বিজ্ঞানী গ্যালীলিও’র কথা চিন্তা করি। তিনি যখন বলেছেন প্রিথিবী ঘুরছে তখন তাকে কারাদন্ড দেয়া হল এবং পরিস্থিতির কারনেই বলতে বাধ্য হল প্রিথিবী স্থীর।জেনেশুনে উনি বলেছেন প্রিথিবী স্থীর কিন্তু মানেননি।যুক্তি বলে প্রিথিবী ঘুরছে কিন্তু তিনি প্রয়োজনকেই প্রাধান্য দিয়েছেন কারন তার জন্য তখন ওটাই যুক্তি।সত্য কে চেপে রেখে মিথ্যা বলাওত অভিনই।তবুও কি প্রিথিবী থেমে আছে ?

বিচিত্র ভাবনা!!!

নির্বাচনী বছর। মোটামোটি সবার অভিজ্ঞতা আছে। এই বছরে জনগণ ত্যক্ত অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়েই যাবে। এবং মেনেও নিয়েছে। এদেশের মানুষ এখন চার ভাগে বিভক্ত।

১।

হেফাজতে জামাতে ইসলাম। যদিও তাদের দাবি হেফাজতে ইসলাম। কিন্তু মানতে পারছিনা। মানতে না পারার কিছু কারণ স্পষ্ট করি। সমগ্র দেশ যখন জামাত শিবির নিয়ে আতংকিত, সর্বস্তরের মানুষ যখন যোদ্ধাপরাধি ও মানবতা বিরোধীদের শাস্তির দাবিতে অনড়, এই দেশের সকল জনগণ যখন প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে ঐ সমস্ত মানুষের বিরোধ্যে যারা ধর্ষণ, হত্যা ও পাশবিক নির্যাতন করেছে তাদেরই স্বজাতিদের(!) উপর ঠিক তখন এই তথাকথিত হেফাজতে ইসলাম নামক সংঘটনটি আস্তিক-নাস্তিক ইস্যুতে আন্দোলন করছে। গণজাগরণ মঞ্চের বিরোধে আন্দোলন করছে। গণজাগরণ মঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে যখন আস্তিক-নাস্তিক ইস্যুতে ব্লগিং করা হত, জামাত-শিবির যখন মক্কা শরিফের ছবি নিয়ে জালিয়াতি করল, চাঁদে যখন টুপি ওয়ালা কাওকে দেখা গিয়েছে এমন গুজব ছড়াল তখন তারা কোথায় ছিল? কোথায় ছিলো? তারা কি বলতে পারবে গণজাগরণ মঞ্চ থেকে ধর্মের বিরোধে বলা হয়েছে? এইসব প্রশ্নের উত্তর হয়ত পাবনা। আমি চাচ্ছি ওনা।

২।

গণজাগরণ মঞ্চের মুক্ত মনা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষেরা। যারা বিশ্বাস করে সবার উপরে মানুষ সত্য, যারা বিশ্বাস করে সকল মানুষের সমান অধিকার, যারা বিশ্বাস করে জাত-পাত, ধর্ম-বর্ণ মানুষকে কখনো শান্তি এনে দিতে পারেনা, যারা বিশ্বাস করে ধর্ম যার যার দেশ সবার, যারা বিশ্বাস করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, যারা বিশ্বাস করে মানবতায় এবং যারা ধারণ করেছে মনুষ্যত্বকে। যাদের দৃঢ় প্রত্যয় সকল মানুষকে অপসংস্কৃতির শৃঙ্খলা থেকে মুক্ত করা, যাদের প্রত্যাশা এমন একটি সমাজ তৈরি করা যেখানে সবাই মানুষের মত আচরণ করবে। যারা যোদ্ধাপরাধির বিচারের ব্যাপারে কোন সমজতা চায়না। যাদের দাবি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে স্বাধীনতাকামী মানুষের স্বাধীনতা নামের সোনার ফসলের কীটপতঙ্গ এর মত ক্ষতি করার চেষ্টায় লিপ্ত ছিল এমন অমানুষদেরকে চিরতরে মুছে স্বাধীনতাকে কলঙ্ক মুক্ত করা। যে পুরনো শুঁকুনেরা জাতির পতাকা আবারো খামছে ধরেছে তাদের নির্মূল করাই একমাত্র লক্ষ ও উদ্দেশ্য।

৩।

সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদরা। এরা বিভিন্ন পক্ষে বিভক্ত। সারা জীবন এরা ক্ষমতার লোভে আক্রান্ত থাকে। নিজেদের স্বার্থে অন্যদের ব্যবহার করে এরা। স্বার্থ উদ্ধারের পর ছোরে ফেলে দিতে দ্বিধা বোধ করেনা তারা। কোটি কোটি মানুষ এদের দায়িত্ব দিয়েছে সমষ্টিগত চিন্তা করার জন্য। এরা সারা জীবনই ব্যক্তিগত চিন্তা করেছে। এমনকি প্রয়োজনে তারা হেফাজতে ইসলাম অথবা শাহাবাগি চেতনার মানুষদেরও ব্যাবহার করেছে, করছে। ক্ষমতাই এদের জন্য সবকিছু। ক্ষমতাই থাকলে তারা বলে বিগত সরকার হেন করেছে তেন করেছে। ক্ষমতায় না থাকলে তারা বলে, তারা ক্ষমতায় গেলে হেন করবে তেন করবে। একই বাজনা সারা জীবন বাঁজায়।

৪।

সাধারণ মানুষেরা। এদের মধ্যে শিক্ষিত-অশিক্ষিত-স্বশিক্ষিত, গ্রাম্য-শহুরে, নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্ত, হিন্দু-মুসলিম-খৃষ্টান-বৌদ্ধ,বাঙ্গালি-অবাঙ্গালি, সংখ্যা গরিষ্ঠ-সংখ্যা লঘু, নবীন প্রজন্ম-প্রবীণ প্রজন্ম, ছোট-বড়, যুবক-বৃদ্ধ, চাকুরেজীবি-ব্যবসায়ী, শ্রমিক-দিনমজুর এমন কি ফকির-মিসকিনরাও। যাদের স্বাভাবিক জীবনে বিঘ্ন ঘটছে এ চলমান পরিস্থিতির কারণে। যারা একদণ্ড শান্তিতে আনন্দ ও তৃপ্তি খুঁজে পায় তারা আজ নিরুপায়। এরা সংখ্যায় অনেক বেশী কিন্তু সঙ্ঘবদ্ধ না। এরা যখন চাঁদে দাড়ি ওয়ালা মানুষের ছবি দেখা যাওয়ার গল্প শুনে তখন সরল মনে বিশ্বাস করে। এদের যখন ধর্মের নামে উসকে দেয়া হয় এরা উসকে যায়। আবার স্বার্থলোভি রাজনীতিবিদরা যখন এদের মিথ্যা স্বপ্ন দেখায় এরা অনুপ্রাণিত হয়। এরা স্বপ্ন বিলাসী। স্বপ্ন দেখে নতুনত্বের, স্বপ্ন দেখে আনন্দের, স্বপ্ন দেখে শান্তির, স্বপ্ন দেখে এমন মাঝির যে উত্তাল সাগরে ডুবন্ত জাহাজের হাল ধরবে। এদের একটায় সমস্যা এরা আমজনতা।